বাংলা ভাষার চর্চা- সামি নিজাম শিশির-এসএসসি ব্যাচ ২০২২

প্রবন্ধ

ভূমিকা: কবি রামনিধিগুপ্ত বলেছেন- “নানান দেশের নানা ভাষা। বিনে স্বদেশী ভাষা পূরে কি আশা”। মানুষের মনের ভাব, আনন্দ-বেদনা, ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা সবকিছু স্বদেশী ভাষা তথা মাতৃভাষাতেই যথার্থভাবে প্রকাশিত হয়। একটি জাতির সামগ্রিক উন্নয়নে সর্বস্তরে সে জাতির মাতৃভাষার প্রচলন অপরিহার্য। বাংলা ভাষা: বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। এটি একটি প্রাচীনতম ও ঐশ্বর্যমন্ডিত ভাষা। বহু বাধা-বিঘ্ন আর চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ক্রমশ এ ভাষা বিকশিত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বহুবিধ অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হলেও বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের ভালোবাসা ও আন্তরিকতায় বিশ্বজুড়ে বাংলা পেয়েছে অত্যন্ত সম্মানজনক আসন। মাতৃভাষার অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত ৫২’র ভাষা আন্দোলন। ভাষার জন্য আত্মদানের এমন বিরল দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয়টি নেই। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: সমগ্র বিশ্বব্যাপী বাংলা ভাষা এখন সমাদৃত। এ ভাষার মর্যাদা আজ পৃথিবীজুড়ে প্রতিষ্ঠিত। জাতিংসঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কোর ঘোষণা অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি তথা শহিদ দিবস “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে’র মর্যাদায় অভিষিক্ত। বাংলা ভাষা ও ভাষা শহিদের সম্মানে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর সংস্থাটি এ ঘোষণা দেয়। নিজভূমে পরবাসী: পৃথিবীজুড়ে সমাদৃত ও সম্মানিত হলেও অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় খোদ বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর কাছে বাংলা ভাষা যেন অবহেলিত। অযত্ন অনাদরে পড়ে আছে দুঃখিনী বাংলা। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন ও ব্যবহারে যে স্বপ্ন নিয়ে রক্ত দিয়েছিলেন বাংলার দামাল ছেলেরা, তাঁদের সে স্বপ্ন যেন আজ ক্রমশ ফ্যাকাশে হতে শুরু করেছে। ব্যাক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আইন-আদালত, গণমাধ্যমসহ সর্বত্রই উপেক্ষিত বাংলা। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষত উচ্চ শিক্ষায় বাংলা ব্যবহার নেই বললেই চলে। অথচ ভাষাগত দিক থেকে বাংলা যথেষ্ট সমৃদ্ধশালী। তথাপি বাংলা যেন নিজভূমে পরবাসী। উপসংহার: ভাষা শহিদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা ও বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন অপরিহার্য। এজন্য খুব বেশি কিছু করতে হবে না। শুধু প্রয়োজন ভাষার প্রতি একটু ভালোবাসা ও আন্তরিকতা কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মতো শুধু ফিরে আসতে হবে- পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে মাতৃভাষা রূপ খনি, পূর্ণ মণিজালে।